*প্রার্থনা, বাক্য এবং ঈশ্বরীয় ব্যবস্থা*
> `“কিন্তু আমরা প্রার্থনায় ও বাক্যের পরিচর্যায় নিবিষ্ট থাকব।” — প্রেরিতদের কার্য ৬:৪`
প্রেরিতদের কার্য ৬:৪ পদে একটি অত্যন্ত গভীর আত্মিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে। খুব কম মানুষই বোঝে যে, প্রার্থনা ও বাক্যের পরিচর্যাকে অন্যান্য দায়িত্বের উপরে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সেই কারণেই শিষ্যরা পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ এমন সাতজন পুরুষকে নিযুক্ত করেছিলেন, যাতে তারা খাবার বিতরণের ব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারে। শিষ্যরা নিজেরাও এই কাজ করতে পারতেন, কিন্তু তারা বুঝেছিলেন যে আত্মিক পরিচর্যা এবং ব্যবহারিক সেবা—উভয়ই ঈশ্বরের রাজ্যের সেবা।
তাই সঠিক ব্যবস্থা বাক্যের পরিচর্যায় বাধা সৃষ্টি করেনি; বরং ঈশ্বরের বাক্য ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল। প্রেরিতদের কার্য ৬:৭ পদে আমরা দেখি যে ঈশ্বরের বাক্য ছড়িয়ে পড়তে লাগল। অনেক সময় মানুষ পরিচর্যা ও ব্যবহারিক দায়িত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য না বোঝার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা নিজেদের পরিচর্যাও ঠিকভাবে করতে পারে না এবং পরিবারের দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করতে পারে না।
কারণ—যেভাবে মঞ্চ বা পুলপিটের পিছনে দাঁড়িয়ে জনতাকে ঈশ্বরের বাক্য শোনানো গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি সেই বাক্য শুনতে আসা মানুষদের ব্যবস্থা ও ব্যবহারিক প্রয়োজনগুলোর যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কাজটিও পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে করতে হবে!
এটি এই সত্যকে আরও গভীর করে: পবিত্র আত্মার পরিচালনায় যে পরিচর্যা করা হয়, তা পবিত্র আত্মা ছাড়া কেউ করতে পারে না—এমনকি খাবার বিতরণের মতো সাধারণ বলে মনে হওয়া সেবাও নয়।
এর মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য রয়েছে: যে ব্যক্তি প্রার্থনা ও বাক্যের পরিচর্যায় নিবেদিত নয়, তার কাছে অন্যান্য দায়িত্ব পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক আত্মিক প্রজ্ঞা থাকবে না। আর সে যদি সেই দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে ব্যবস্থা সৃষ্টি করার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতিও সৃষ্টি করতে পারে।
খ্রীষ্টে আপনাদের ভাই,
প্রেরিত অশোক মার্টিন