কোনো কিছুর পক্ষে না দাঁড়ানো এবং কারও পক্ষে না দাঁড়ানোর পাপ
> “তারা কোনো কিছুর পক্ষেই দাঁড়ায় না, কারও পক্ষেও দাঁড়ায় না।” — যিরমিয় ৫:২৮ (MSG)
যিরমিয় ৫ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি শুধু এই ছিল না যে দুষ্ট লোকেরা ছিল; বরং এই ছিল যে ধার্মিক লোকেরা নীরব হয়ে গিয়েছিল। মন্দতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ যারা সত্য জানত, তারা সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে অস্বীকার করেছিল। ঈশ্বর শুধু অত্যাচারীদের পাপেই অসন্তুষ্ট ছিলেন না, বরং তাঁদের প্রতিও অসন্তুষ্ট ছিলেন যারা সবকিছু দেখেও নীরব থেকেছিল।
একজন ধার্মিক ব্যক্তি শুধু মন্দ থেকে দূরে থাকে না; তিনি সত্যের পক্ষে দাঁড়ান, অসহায়দের রক্ষা করেন এবং যাদের কোনো কণ্ঠস্বর নেই, তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। যখন অন্যায় বেড়ে চলে, তখন নীরব থাকা মানে মন্দতার কাছে আত্মসমর্পণ করা।
যিরমিয়ের সময়ে দুষ্ট লোকেরা দরিদ্রদের শোষণ করত, অনাথদের পরিত্যাগ করত এবং অন্যায়ের মাধ্যমে ধন-সম্পদ অর্জন করত। তবুও ঈশ্বরের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল: “তারা কোনো কিছুর পক্ষেই দাঁড়ায় না, কারও পক্ষেও দাঁড়ায় না।” তাদের বিশ্বাস ছিল, কিন্তু সাহস ছিল না; ধর্ম ছিল, কিন্তু কাজ ছিল না; ভক্তি ছিল, কিন্তু করুণা ছিল না।
পাপের সামনে নিরপেক্ষ থাকা কখনোই ধার্মিকতা নয়। যখন সত্যের সঙ্গে আপস করা হয় এবং ঈশ্বরের লোকেরা নীরব থাকে, তখন তাদের নীরবতাও পাপের অংশীদার হয়ে যায়। ধার্মিকদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেলে, দুষ্টতার কণ্ঠস্বর সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।
আজও ঈশ্বর এমন নারী-পুরুষদের খুঁজছেন যারা যে কোনো মূল্যেই হোক সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে, তা যতই অজনপ্রিয় হোক না কেন; যারা ন্যায়ের জন্য কথা বলবে এবং যাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই, তাদের পাশে দাঁড়াবে। পৃথিবীর শুধু এমন মানুষের প্রয়োজন নেই যারা সত্যে বিশ্বাস করে; বরং এমন মানুষের প্রয়োজন যারা সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়।
খ্রিস্টে আপনার ভাই,
প্রেরিত অশোক মার্টিন