‘ধন্য’ হওয়ার সত্য অর্থ
> ধন্য সেই মানুষ, যার অপরাধ প্রভু গণনা করেন না, এবং যার আত্মায় কোনও ছলনা নেই। গীতসংহিতা ৩২:২
‘ধন্য’ হওয়া মানে কেবল আনন্দিত বা সুখী হওয়া নয়, বরং এমন গভীর অন্তরঙ্গ আনন্দের অভিজ্ঞতা পাওয়া, যা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে থাকে। প্রাচীন কালে এই শব্দটি সেই সব মানুষের জন্য ব্যবহৃত হতো, যারা দারিদ্র্য, রোগব্যাধি কিংবা মৃত্যুর মতো বিপদ থেকেও অপ্রভাবিত থাকত। আজও মানুষ সুখ ও শান্তি খোঁজে সম্পদে, সুযোগে ও সম্পর্কের মধ্যে, কিন্তু প্রকৃত আনন্দ কেবল ঈশ্বর থেকেই আসে। এই আনন্দ তাঁদের উপর থাকে, যারা ধার্মিকতার পথে চলে। পৃথিবীর পাপময় আনন্দ অস্থায়ী—তা কিছু সময়ের জন্য আকর্ষণ করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিশাপ ও শূন্যতা রেখে যায়। সত্যিকারের আনন্দ পবিত্রতার মধ্যেই পাওয়া যায়, যেখানে আত্মা ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনে থাকে।
‘ধন্য’ হওয়ার অর্থ ঈশ্বরের দ্বারা গ্রহণযোগ্য হওয়া। যেমন একজন বর বিয়ের আগে কনের পিতার অনুমোদন চায়, তেমনই ধন্য সেই ব্যক্তি, যে নিজের জীবনে স্বর্গীয় পিতার প্রসন্নতা লাভ করে। জানা যে ঈশ্বর আপনার প্রতি সন্তুষ্ট, সেটিই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ। যখন আপনি তাঁর ইচ্ছা অনুসারে চলেন, তখন তিনি আপনার মধ্যে আনন্দ পান এবং আপনার সঙ্গ উপভোগ করেন।
‘ধন্য’ হওয়ার অর্থ ঈশ্বরের কৃপাধীনে জীবনযাপন করা। তিনি শুধু তাঁর লোকদের গ্রহণই করেন না, বরং তাঁদের উপর অনুগ্রহ, দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। যেমন গীতসংহিতা ২৩:৬-এ লেখা আছে—“নিশ্চয়ই মঙ্গল ও করুণা আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে আমার সঙ্গে থাকবে, এবং আমি সদাপ্রভুর গৃহে চিরকাল বাস করব।” এটাই সত্যিকারের ধন্য জীবনের চূড়ান্ত রূপ। হালেলুয়া!
খ্রীষ্টে আপনার ভাই,
*প্রেরিত আশোক মার্টিন*