
উপাসনার নিয়ম: যাকোবের ঈশ্বরে শক্তি, আনন্দ ও বিজয়
হে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ, সদাপ্রভুর উদ্দেশে আনন্দধ্বনি করো! আনন্দের সঙ্গে সদাপ্রভুর উপাসনা করো! উল্লাসধ্বনির সঙ্গে তাঁর সম্মুখে এসো! গীতসংহিতা ১০০:১–২
ঈশ্বরের রাজ্যে উপাসনা কোনো বিকল্প নয়; এটি একটি *দিব্য বিধান* এবং *যাকোবের ঈশ্বর কর্তৃক স্থিরকৃত নিয়ম*। গীতসংহিতা ৮১:১–৪ প্রকাশ করে যে ইস্রায়েলের শক্তি তাদের সৈন্যবাহিনী, ধন বা জ্ঞান থেকে আসেনি, বরং তাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। *“গাও”*—এটি কোনো হালকা আদেশ নয়, বরং এক আহ্বান যে আমরা যেন আমাদের কণ্ঠ উঁচু করি এবং সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করি যে আমাদের শক্তি কেবল তাঁর মধ্যেই আছে। আনন্দময়, উচ্চকণ্ঠের, আত্মায় ভরপুর উপাসনাই ঈশ্বরের জনগণের প্রকৃত সংস্কৃতি।
এই উপাসনা নীরব নয়, বরং বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হয়—ঢোল, বীণা, সারেঙ্গী ও তূর্যসহ। প্রতিটি সুর এক একটি ভবিষ্যদ্বাণীর মতো ঘোষণা করে যে ঈশ্বর প্রত্যেক ঋতুতে রাজত্ব করেন। *নতুন চাঁদের দিনে তূর্যধ্বনি করা* শুধু একটি রীতি নয়; এটি একটি ঘোষণা যে জীবনের প্রতিটি নতুন চক্র, প্রতিটি পরিবর্তন ও প্রতিটি ঋতু ঈশ্বরের জনগণের জন্য বিজয়ের চিহ্ন। উপাসনা সময়কে দিব্য বিধানের সঙ্গে যুক্ত করে।
কিন্তু এর বিপরীতটিও সত্য। যখন মুখ বন্ধ থাকে, যখন স্তব রুদ্ধ হয়, তখন রাজ্যের নীতি ভঙ্গ হয়। গীতসংহিতা ৮১:১০ স্মরণ করিয়ে দেয় যে খোলা মুখই ঈশ্বরের পরিপূর্ণতার পাত্র হতে পারে। উপাসনায় নীরব থাকা নম্রতার চিহ্ন নয়, বরং *পরিচ্ছিন্নতার* চিহ্ন। এরূপ লোকেরা ঈশ্বরের আশীর্বাদের প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; কারণ উপাসনাই সেই মাধ্যম যার দ্বারা শক্তি, আনন্দ ও ব্যবস্থা প্রকাশ পায়।
অতএব আসুন, আমরা রাজ্যের জনগণ হয়ে উপাসনাকে শুধু একটি *পরম্পরা* নয়, *নিয়ম* হিসেবে গ্রহণ করি; এটিকে কেবল একটি *বিধি* নয়, বরং *জীবন* হিসেবে বুঝি। আমাদের শক্তি, বিজয় ও পরিচয় যাকোবের ঈশ্বরের স্তবেই নিহিত।
আপনার খ্রীষ্টে ভাই,
প্রেরিত আশোক মার্টিন